Skip to content

ব্যবহার করা হয়েছিল এই সুপারহিট আইডিয়া, যার দরুণ ৫০ টন থেকে ২০০০ টন হয়েছে পার্লেজির বিক্রি

    img 20220914 153233

    বছরের পর বছর ধরে ভারতের প্রতিটি বাড়িতে একটি সুপরিচিত নাম পার্লে-জি (parle-g)। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই বেশ জনপ্রিয় বিস্কুট পার্লেজি। প্রায় ২-৩ দশক থেকে ভারতের বাজারে রাজ করা এই পার্লেজিকে টেক্কা দেওয়ার মত ব্র্যান্ড এখনও ভারতের বাজারে আসেনি। জানা যায়, পার্লেজির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৯০ দশকের জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্র শক্তিমান (shaktiman)। যার কারণেই নাকি, ৫০ টন থেকে ২০০০ টন হয়েছে পার্লেজির বিক্রি।

    ১৯৯০-র শেষের দিকে ভারতীয় সুপারহিরো শক্তিমানকে নিয়ে নির্মিত টিভি শো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সেইসময় প্রতিটি ঘরে ঘরেই এই শো দেখতে ছোট থেকে বড় সকলেই। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টেলিভিশনে এই প্রচারিত হওয়ার কারণে অভিনেতা মুকেশ খান্নাও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।

    img 20220914 153201

    সেইসময় মুদনানি তাঁর প্রথম সমন্বিত বিপণন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেইসময় প্রায় ২৫ বছর আগে পার্লে পণ্যের বিপণন প্রধান প্রবীণ কুলকার্নি তামিলনাড়ুর বাজারের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। তৎকালীন বাজারে বাজারে দুধের বিস্কুটের আধিপত্য থাকায় ব্রিটানিয়ার দুধের বিস্কুট সবথেকে বেশি বিক্রি হত। তবে এই গ্লুকোজ বিস্কুট পার্লেজির সেভাবে কোন আধিপত্য ছিল না।

    এবিষয়ে মুদনানি জানান, ‘আমরা একটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিই। শক্তিমান সুপারহিরো চরিত্রটি তামিলনাড়ুর শিশুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল। সেই চরিত্রটি পার্লে-জি-র জাতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও ছিল। শক্তিমান চরিত্রে শক্তি, সহনশীলতা, শক্তি এবং ভালো মূল্যবোধের মতো সমস্ত জিনিস ছিল যা পার্লে-জি বিস্কুটের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল’। এই কারণে, মুদনানি শক্তিমান (shaktiman) অর্থাৎ মুকেশ খান্নাকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়ার এবং বাচ্চাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য, একটি মাঠ বুক করে, প্রবেশ টিকিট হিসাবে পার্লে-জি-এর দুটি খালি মোড়কের শর্ত রাখা হয়েছিল।

    img 20220914 153248

    অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুদনানি ভেবেছিলেন হয়ত কয়েক হাজার বাচ্চা তাঁদের বাবা মায়েদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে আসতে পারনে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক এর উল্টো ঘটনাই ঘতে দেখা গেল। সকাল নটার দিকে কয়েকজন শিশু তাঁদের বাবা মায়ের সঙ্গে এসে শক্তিমানের সঙ্গে দেখা করে যায়। এর আসতে থাকে একের পর এক স্কুল বাস। এই ভাবে সন্ধ্যে ছয়টা পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক শিশু এসে দেখা করেছিলেন শক্তিমানের সঙ্গে।

    এরপরই মুদনানির দল জনসংযোগ সক্রিয় করে। প্রতিটি সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়ে ওঠে ‘চেন্নাই মে শক্তিমান’। যার ফলে ৫০ টন থেকে সরাসরি ২০০০ টনে পরিণত হয় পার্লেজি-র বিক্রি। এইভাবেই শক্তিমানকে (shaktiman) কাজে লাগিয়ে বিক্রি বেড়েছিল পার্লেজি বিস্কুটের।