Skip to content

নির্দোষ লোকটির 400 বছরের সাজা হয়েছিল, জীবনের 34 বছর কেটেছে জেলে, সরকার এখন ক্ষমা চাইছে, কারণ…

    img 20230317 094611

    পৃথিবীতে প্রতিটি অপরাধের শাস্তি আছে। কঠোরতম আইনও রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা এমন ঘটনা শুনতে পাই, যা আমাদের অবাক করে। আজ আমরা আপনাদের এমনই একটি কাহিনী বলতে যাচ্ছি। ডাকাতির অপরাধে এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল পুলিশ। কয়েক মাস ধরে তার বিচার চলে, এবং আদালত তাকে ৪০০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এই ব্যক্তি ৩৪ বছর জেলে বন্দি ছিলেন। কিন্তু সরকার এখন আদালতে ক্ষমা চেয়ে হলফনামা দিয়ে বলেছে, “এই ব্যক্তি নির্দোষ। ভুল করে সাজা দেওয়া হয়েছে”।

    আপনি কল্পনা করুন যে একজন ব্যক্তিকে কোন অপরাধ ছাড়াই ৩৪ বছর ধরে অন্ধকূপে বন্দী করা হয়েছিল। ঘটনাটি আমেরিকার, সম্প্রতি তিনি ফ্লোরিডা জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে একটি দোকানের বাইরে গ্রেপ্তার হন “সিডনি হোমস” (Sydney Homes) নামের ওই ব্যাক্তি। তার সঙ্গে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। তিনজনকেই ডাকাতির অভিযোগ এনে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

    img 20230317 094635

    যাদের সাথে এই ঘটনা ঘটেছে তারা একটি গাড়িকে শনাক্ত করেছে যেটি বাদামী রঙের এবং উপর থেকে খোলা ছিল। হোমসের’ও একই ধরনের একটি গাড়ি ছিল। তিনি ১৯৮৯ সালের এপ্রিল মাসে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন এবং পরের মাসে তাকে সাজা দেওয়া হয়। হোমস উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও কোনো লাভ হয়নি।

    হোমস যখন তার সাজা ভোগ করছিল, তখন তার ভাই আরেকটি বাদামী গাড়ি দেখতে পায়। এটা ছিল হুবহু হোমসের গাড়ির মতো। নম্বর প্লেটও ছিল একই। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং দাবী করেন, যে অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাতে তিনি নির্দোষ। ফ্লোরিডার ইনোসেন্স প্রজেক্ট তখন হোমস মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করে।

    পুনঃতদন্তে অনেক ত্রুটি দেখা যায়। সরকার আদালতে গিয়ে বলে, যে প্রমাণের ভিত্তিতে হোমসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা আদৌ সত্যি নয়। সাক্ষীদের বক্তব্যও মিলছে না। এত বড় ভুল কিভাবে হল বুঝতে পারছি না। কীভাবে তাকে সন্দেহজনক বলে বিবেচনা করা হয়েছিল, এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী সাজা বাতিল ও সম্মানের সঙ্গে খালাসের দাবি জানান।

    img 20230317 094621

    এরপর আদালত হোমসের সাজা বাতিলের অনুমোদন দেয়। হোমস একদিন আগে মুক্তি পায়। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো আশা ছারিনি এবং সবসময় জানতাম এই দিনটি আসবে’। তিনি মুক্ত হবেন জানতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। বলেন, মাকে জড়িয়ে ধরার জন্য ৩৪ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না। মুক্তির পর হোমস বেরিয়ে এসে তার মাকে কোলে তুলে নেয়, এবং দুজনেই কাঁদতে থাকে।