Skip to content

গঙ্গার বুকে ফেলে দেওয়া ফুল থেকে দুর্দান্ত আইডিয়া লাগিয়ে শুরু করেন ব্যবসা, আজ বার্ষিক টার্নওভার দু’কোটি টাকা

    বর্তমান যুগের মানুষ ব্যবসার (business) দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অন্যের কাছে গোলামী করে চাকরী না করে, নিজের ইচ্ছেমত ব্যবসা করতেই মানুষ বেশি পছন্দ করে। সেইমত দেখা যাচ্ছে, সরকারও স্টার্টআপ কার্যক্রমের ওপর জোর দিচ্ছে।

    তবে চাকরী সবাই করতে পারলেও, ব্যবসা অনেকেই করতে পারেন না। প্রথমত, ব্যবসা করার জন্য চাই কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য্যের। একনিষ্ঠতা না থাকলে, ব্যবসা করা অসমভব হয়ে পড়বে। তারউপর থাকতে হবে ব্যবসায়িক ধারণা, তবেই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।

    আবার ব্যবসা (business) করতে গেলে দুটো জিনিসের ভীষণ প্রয়োজন। একটি টাকা, আর অন্যটি ভালো আইডিয়া। টাকা না থাকলে আপনি যেমন ব্যবসা করতে পারবেন না, ঠিক তেমনই ভালো বিজনেস আইডিয়া না থাকলে, টাকাটা কোন খাতে কাজে লাগাবেন, তাও বুঝতে পারবেন না।

    এবার চাকরী ব্যতিরেকে ব্যবসার (business) দিকে আগ্রহ দেখিয়ে, আজ সফল ব্যবসায়ী হয়ে দেখিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের কানপুরের দুই যুবক। নদীতে ফেলে দেওয়া ফুল দিয়েই শুরু করলেন নতুন ব্যবসা। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই ব্যবসার এখন বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২ কোটি টাকা।

    হেল্প আস গ্রিন’ নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন দুই বন্ধু মিলে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা অঙ্কিত আগরওয়াল একটি সাক্ষাৎকারে বলেন কানপুর থেকে 25 কিলোমিটার দূরে ভুন্টি গ্রামে তাঁর একটি অফিস রয়েছে। তাঁদের ব্যবসয়া শুরু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসাবে পুজো হয়ে যাওয়ার পর ২৯ টি মন্দির থেকে পুজোর সেই প্রায় ৮০০ কেজি ফুল ফেলে দেওয়া হয়। আর সেই ফুল থেকেই ধূপকাঠি এবং জৈব কৃমি কম্পোস্ট তৈরি করে তাঁদের কোম্পানি।

    এবিষয়ে অঙ্কিত আরও জানান, ২০১৪ সালে তিনি তাঁর বন্ধুর সঙ্গে কানপুরে বিথুর মন্দির দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন গঙ্গার তীরে পচা ফুল ফেলায়, নদী দূষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বন্ধুর এই বিষয়টা খারাপ লাগায়, তাকেই এটার জন্য কিছু করতে বলেন।

    এরপর এই বিষয়ের উপর ভাবনা শুরু করেন তিনি এবং শপথ নেন গঙ্গাবক্ষে আর পচা ফুল ফেলতে দেবেন না। এরপর অঙ্কিত এবং তাঁর বন্ধু করণ তাঁদের চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র ৭২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ‘হেল্প আস গ্রিন’ নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন।

    এরপর শুরু হয় তাঁদের যুদ্ধ। অনেকে তাঁদের পাগলও বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পিছিয়ে আসেননি। আজ তাঁদের কোম্পানিতে পুরুষের পাশাপাশি ৭০ জনেরও বেশি মহিলা কাজ করেন। দৈনিক ২০০ টাকা মজুরির বিনিময়ে তাঁদের কাজ কারানো হয়। ২০ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত কোম্পানিতে ধূপকাঠি তৈরির কাজ করা হয়। কানপুর, কনৌজ এবং উন্নাও সহ বেশকিছু জায়গায় তাঁদের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ায় আজকের দিন দাঁড়িয়ে তাঁদের বার্ষিক টার্নওভার ২ কোটি টাকা।